করোনা মহামারির মধ্যেও রপ্তানি বাণিজ্যে সুবাতাস বইছে। একের পর এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে সবাইকে অবাক করে দিচ্ছেন রপ্তানিকারকরা।
অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে সদ্যসমাপ্ত ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারে। বর্তমান বিনিময় হারে (৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে এত বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে আসেনি। এর আগে একক মাসে সর্বোচ্চ আয় এসেছিল গত অক্টোবরে, ৪৭২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।
আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসাবে ২৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন (২ হাজার ৪৬৯ কোটি ৮৫ কোটি) ডলার রপ্তানি আয় দেশে এসেছে।
এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৮ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি এসেছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
এই উল্লম্ফনে কেমল রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক, চামড়া, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্যসহ প্রায় সব খাতেই অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। ব্যতিক্রম শুধু পাট খাত।
এই ছয় মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৮ শতাংশের বেশি। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ২৬ শতাংশ। কৃষি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২৫ শতাংশের মতো। হিমায়িত মাছে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ২০ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল রপ্তানি বেড়েছে ৩১ শতাংশ। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ২০৮ শতাংশ। ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২২ দশমিক ২১ শতাংশ।
চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৯ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৬৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার। এই ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৬৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এই হিসাবেই জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে পাট খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।